টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২১st এপ্রিল ২০২০

সামাজিক খাতে সোলার কর্মসূচী

স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে সৌর বিদ্যুতায়ন:

এক হিসাবমতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মাত্র ১৮,০০০ গ্রামীন কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ হয় গ্রিডের সংযোগবিহীন এবং এদের কোনটি কোনটি অনিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়ে থাকে। এই কেন্দ্রগুলোতে ছোটখাট সার্জারি পরিচালনার জন্য বা এমনকি ভ্যাকসিন ও ঔষধ সংরক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ একটি অপরিহার্য বিষয়। সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সৌর বিদ্যুতায়ন প্রকল্প গ্রামীণ লোকদের মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে। এই প্রকল্পের আওতায়, নিম্নলিখিত স্থানে সম্পূর্ণ সোলার পিভি সিষ্টেম স্থাপন করা হবে:

* গ্রামীণ কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রং

* ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র

উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোর অপারেশন থিয়েটারে জরুরী লাইটিং ও পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কথাও ভাবা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুৎ যোগ হবে অতিরিক্ত ৫০ মেগাওয়াট।

দূরবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুতায়ন:

শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে স্কুলগুলোতে সরকারের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু প্রত্যন্তঞ্চলের অনেক স্কুলে বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বা এমনকি কোথাও কোথাও বিদ্যুতের সংযোগই নাই। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে সোলার পাওয়ার সিস্টেম সরবরাহ করা। এই প্রকল্প হতে মোট সৌর বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ৪০ মে:ও:। প্রকল্পটি গ্রামীন লোকদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

ইউনিয়ন ই-কেন্দ্রগুলোতে সৌর বিদ্যুতায়ন:

সরকার তার নিম্নতম প্রশাসনিক ইউনিট তথা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রায় ৪৫০১ টি তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহন করেছে। বাংলাদেশের সকল নাগরিক এমনকি প্রত্যন্তঞ্চলের নাগরিকদের ও তথ্যাধিকার নিশ্চিত করতে তথ্য কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে। প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক পরিচালিত এক্সেস টু ইনফরমেশন(এটুআই) কর্মসূচীর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

যেহেতু অনেক ইউনিয়নে দিনের বেলায় যথেষ্ট পরিমানে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, কাজেই ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রগুলোতে পিভি সিস্টেম স্থাপন করতে হবে যাতে প্রত্যন্ত গ্রামবাসীগণ তথ্যের সুবিধা ভোগ করতে পারেন। প্রায় ১,০১৩ টি ই-কেন্দ্রে ইতোমধ্যে সোলার পিভি সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য যন্ত্রপাতির মধ্যে সোলার পিভির দ্বারা প্রতিটি কেন্দ্রে এক/দুটি কম্পিউটার, একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি স্কেনার এবং লাইট ও ফ্যান চলবে। এই প্রকল্প হতে প্রত্যাশিত সোলার পাওয়ার ক্যাপাসিটি ৭ মে:ও:।

অধিকাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন-মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডাগুলো সরকার ও জনগনের অর্থায়নে পরিচালিত হয়।দিনব্যাপী প্রার্থনার সময়ের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যবহার হয়ে থাকে। অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এমন প্রত্যন্তঞ্চলে অবস্থিত যেখানে কোন বিদ্যুৎ নাই। সেখানে সৌর বিদ্যুৎ শুধু গ্রিডের বিদ্যুতের চাহিদা কমাবেই না, বরং সরকারের সামাজিক  প্রতিশ্রুতিও পুরণ করবে। এই প্রকল্প হতে মোট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ১২ মে:ও:।

প্রত্যন্ত রেলওয়ে স্টেশনে সৌর বিদ্যুৎ:

বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে ৪৫০ টি স্টেশন রয়েছে। অনেক স্টেশনই দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত বিধায় সেগুলোর কোনটাতে বিদ্যুতের সুবিধা নাই আবার কোনটাতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নাই। সেক্ষেত্রে সোলার পিভি ব্যাটারি ব্যাক-আপ সাপ্লাই নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এই প্রকল্প হতে প্রত্যাশিত মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ১০ মে:ও:।

সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে সোলার পিভি সিস্টেম:

সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ ভবনসমূহে আগামী তিন বছরের মধ্যে সোলার পিভি সিস্টেম স্থাপন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে তাদের ফ্যান ও লাইট বাবদ যে বিদ্যুৎ খরচ হয় তার একটা অংশ  পিভি সোলার হতে মেটানো যায়্। অবশ্য, ভবনের সিস্টেম ক্যাপাসিটি ভবনের আকৃতি ও অবস্থান অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হবে। সরকার ২ ঘন্টার ব্যাটারি-ব্যাক আপ সাপোর্ট বাধ্যতামূলক করেছেন। এই প্রকল্প হতে সোলার পাওয়ার হিসেবে ৪১ মে:ও: বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে যার মধ্যে ২৫ মে:ও: সরকারি অফিসসমূহে ও ১৬ মে:ও: আধা-সরকারি অফিসসমূহে পাওয়া যাবে।

কর্মসূচী ও অর্থায়ন:

ষষ্ঠ পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনায় উল্লেখিত উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা  এবং রূপকল্প ২০২১ এর সফলতা বাংলাদেশের শক্তি/এনার্জি/জ্বালানি সংকট মোকাবেলার দক্ষতার উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। সরকার একটি সামগ্রিক বিদ্যুৎ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন করেছে যা ষষ্ট পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা ও এর পরবর্তীতে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রকার শক্তি সরবরাহ বৃদ্ধি করবে ও খাতওয়ারী দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাবে। এর জন্য প্রয়োজন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ খাতে বিনিয়োগ, শক্তির ও উৎসের বহুমুখীকরণ, কয়লা, হাইড্রো, সোলার ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের উপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা পরিহার করা, প্রতিবেশি দেশ বিশেষ করে ভারতের সাথে বিদ্যুৎ কেনাবেচায় সংশ্লিষ্ট হওয়া, গ্যাস ও কয়লাসহ প্রাথমিক শক্তির উৎস উন্নয়ন, শক্তি সংরক্ষণ এবং স্থাপিত ক্যাপাসিটির উন্নত ব্যবহার।

ষষ্ঠ পরিকল্পনায় জ্বালানির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ (কোটি টাকা: অর্থবছর মূল্য)

মন্ত্রণালয়

 

অর্থবছর ১১

অর্থবছর ১২

 

অর্থবছর ১৩

 

অর্থবছর ১৪

 

অর্থবছর ১৫

বিদ্যুৎ

৪৯৯৫

৬৫৭৬

৭৪৩৯

৮৮৯৬

১০৩৬৪

জ্বালানি এবং খনিজ

১০৮০

১৪০৭

১৪৯৩

১৬৪৩

১৭৬৩

মোট

৬০৭৫

৭৯৮৩

৮৯৩২

১০৫৩৯

১২১২৭

হিসাব মতে ৫০০ মে:ও: সোলার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে ২.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ১.৭৭ বিলিয়ন শুধুমাত্র বানিজ্যিক খাতেই প্রয়োজন হবে। এই কর্মসূচীতে অর্থায়নের জন্য উন্নয়ন অংশিদারদের নিকট হতে অনুদান ও ঋণ হিসেবে আর্থিক সহযোগিতা আশা করা হচ্ছে। সরকার ১.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান হিসেবে এবং ০.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দান হিসেবে আশা করছে। অবশিষ্ট অর্থ সরকার ও বেসরকারি খাত হতে সংস্থান করা হবে।

 

 

 

 

বানিজ্যক প্রকল্পসমূহের আর্থিক ব্যবস্থাপনা:

ক্রমিক নং

 

ধরণ

প্রাক্কলিত

ক্যাপাসিটি

(মেঃও:)

প্রাক্কলিত কাংখিত বিনিয়োগ (মিলিয়ন মা:ড:)

প্রাক্কলিত মজুরি(মিলিয়ন মা:ড:)

প্রাক্কলিত ঋণ(মিলিয়ন মা:ড:)

প্রাক্কলিত

ইক্যুইটি

 

বাণিজ্যিক প্রকল্পসমূহ

 

 

 

 

 

সোলার সেচ পাম্প

১৫০

৮০৬

৪০৬ (৫০%)

২৪০(৩০%)

১৬০ (২০%)

সোলার পাওয়ার মিনি গ্রিড সিস্টেম

২৫

১৬৮

৮৫(৫০%)

৫০(৩০%)

৩৩(২০%)

খাস জমিতে সোলার পার্ক

১১৫

৫৪৬

-

৩৮২(৭০%)

১৬৪ (৩০%)

রেলওয়ে জমিতে সোলার পার্ক

২০

৯৫

-

৬৬.৫

(৭০%)

২৮.৫

(৩০%)

বেসরকারি বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে সোলার পাওয়ার

১০

৫২

-

৩৬ (৭০%)

১৬(৩০%)

শিল্পখাতে সোলার

২০

১০৪

-

৭৩(৭০%)

৩১(৩০%)

 

 

উপ-মোট

 

৩৪০ মেঃও:

 

১৭৭১

 

৪৯১(২৮%)

 

৮৪৭.৫

(৪৮%)

 

৪৩২.৫

(২৪%)

          সামাজিক প্রকল্পসমূহের আর্থিক ব্যবস্থাপনা:

 

ক্রমিক নং

 

 

ধরণ

প্রাক্কলিত

ক্যাপাসিটি

(মেঃও:)

প্রাক্কলিত কাংখিত বিনিয়োগ(মিলিয়ন মা:ড:)

প্রাক্কলিত মজুরি(মিলিয়ন মা:ড:)

প্রাক্কলিত ঋণ(মিলিয়ন মা:ড:)

 

সামাজিক প্রকল্পসমূহ

 

 

 

 

গ্রাম্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সৌর বিদ্যুতায়ন

৫০

৩১০

২৭৯(৯০%)

৩১(১০%)

প্রত্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌর বিদ্যুতায়ন

৪০

২৪৬

২২১(৯০%)

২৫(১০%)

ই-কেন্দ্রসমূহে সৌর বিদ্যুতায়ন

৪৪

৪০(৯০%)

৪(১০%)

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে সৌর বিদ্যুতায়ন

১২

৭৫

৬৭.৫(৯০%)

৭.৫(১০%)

প্রত্যন্ত রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে সৌর বিদ্যুতায়ন

১০

৬২

৫৬(৯০%)

৬(১০%)

সরকারি ও আধা-সরকারি অফিসসমূহে সৌর বিদ্যুতায়ন

৪১

২৫৪

২২৯(৯০%)

২৫(১০%)

 

 

উপ-মোট

 

১৬০ মেঃও:

 

৯৯১

 

৮৯২.৫(৯০%)

 

৯৮.৫(১০%)

 

বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অংশিদারিত্ব

সরকার বা অন্যান্য দাতা সংস্থার আর্থিক সমর্থনের বাইরেও সরকার নিন্মলিখিত সমর্থনসমূহ প্রদান করবে:

  • বাস্তবায়নের জন্য সমর্থন
  • প্রকল্পে বিনিয়োগকারীও পরিচালকগণের জন্য রাজস্ব প্রণোদনা
  • কতিপয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক রেয়াত (সম্পূর্ণ/আংশিক)
  • ভূমি অধিগ্রহণ (প্রকল্প ভিত্তিক)
  • প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন

আশা করা যা্চ্ছে যে, উন্নয়ন অংশিদার, দাতা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কর্মসূচী বাস্তবায়নে  নিম্নরূপ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমর্থন যোগাবে :

(ক) কারিগারি সহায়তা (প্রকল্প অনুসারে)

- প্রকল্পের ডিজাইন

- র্স্ট্যান্ডার্ড প্রকিউরমেন্ট ও কন্ট্রাক্ট ডকুমেন্ট প্রস্তত করা

- বিস্তারিত ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই)

- ক্যাপাসিটি বিল্ডিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা

(খ) আর্থিক সহায়তা:

-অনুদান সহায়তা

-স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা।


Share with :

Facebook Facebook